তারাবি নামাজের দোয়া ও মোনাজাত 2024

তারাবি শব্দের অর্থই হলো বিশ্রাম নেওয়া, প্রশান্তি , আরাম, বিরতি দেওয়া। আর বিরতি দেওয়ার মানে হলো ২০ রাকাত তারাবির নামাজের প্রতি ৪ রাকাত পর পর বিশ্রাম নেওয়া। ঐ বিশ্রামে জিকির আজকার দোয়া দুরুদ পড়া এবং কেউ চাইলে প্রচলিত এবং ফজিলত পূর্ণ একটি দোয়া আছে সেই দোয়াটি পড়তে পারে এবং ৪ রাকাত তারাবি নামাজের পর পর মোনাজাত ও দিতে পারে।

তারাবি নামাজ রমজান মাসে এশার ফরজ এবং ২ রাকাত সুন্নতের পর এবং বিতির নামাজে আগে পড়তে হয়।সূরা তারাবি কিংবা খতম তারাবি দুইভাবেই নামাজ আদায় করা যাবে।

তারাবি নামাজ মোট ২০ রাকাত।অনেকে ৮ রাকাত বলবে কিন্তু যেহেতু এটা নামাজ এবং সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ সুতরাং কমাবো না বরং আমরা বেশি টাই পড়বো।যতো বেশি নামাজ পড়বেন, যতো বেশি জিকির আজকার করবেন ততো আল্লাহর কাছে যেতে পারবেন। পারলে আমল বাড়ান, কমাবেন নাহ।

২০ রাকাত তারাবি নামাজ ২ রাকাতা করে পড়তে হয়। ২ রাকাত করে ৪ রাকাত হওয়ার পর বিশ্রাম নিবেন, একটু রেস্ট নিবেন।তখন দুরুদ শরীফ বা তারাবি নামাজের দোয়াটি পড়বেন।

তারাবি নামাজের দোয়া ও মোনাজাত

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে ব্যাক্তি তারাবি নামাজ ইমানের সঙ্গে সওয়াবের উদ্দেশ্য আদায় করবে তার অতীতের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হবে- সুবহানাল্লাহ ( হাদিসটি সহিহ মুসলিম, বুখারির হাদিস)

তারাবির নামাজের নিয়ত

বাংলা নিয়ত হচ্ছে , আমি কেবলামুখি হয়ে ২ রাকাত তারাবির সুন্নত নামাজের নিয়ত করছি – আল্লাহু আকবার। এরপর ছানা পড়ে নামাজ শুরু করে দিবেন। আরবী নিয়ত হলো, নাওয়াইতুয়ান উসাল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা রাকাআতাই চলাতিত তারাবিহ, সুন্নাতু রাসুল্লিল্লাহি তায়ালা, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার।(ইমামের পিছনে হলে পড়বেন- একতা দাইতো বিহাজাল ইমাম মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার।)

তারাবি নামাজের দোয়া

তারাবি নামাজের দোয়া
তারাবি নামাজের দোয়া

سُبْحانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ سُبْحانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظْمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوْتِ * سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِيْ لَا يَنَامُ وَلَا يَمُوْتُ اَبَدًا اَبَدَ سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ رَبُّنا وَرَبُّ المْلائِكَةِ وَالرُّوْحِ

উচ্চারণ : ‘সুবহা-নাজিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহা-নাজিল ইয্যাতি ওয়াল আঝমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরতি ওয়াল কিবরিয়া-য়ি ওয়াল জাবারূতি। সুবহা-নাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা-ইয়ানা-মু ওয়ালা- ইয়ামুতু আবাদান আবাদা; সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রব্বুনা-ওয়া রব্বুল মালা-য়িকাতি ওয়াররূহ।’

তারাবি নামাজের মোনাজাত ৪ রাকাত পর পর ও দেওয়া যাবে , একবারে শেষ করেও দেওয়া যাবে। যদি আপনার হাতে সময় থাকে তাহলে ৪ রাকাত পর পর দিবেন। কারন মোনাজাত আমরা আমাদের সৃষ্টি কর্তার কাছে করি। যতো বেশি আদব এবং ইমানের সাথে আল্লাহর কাছে চাইবেন আল্লাহ আপনাকে ততো দিবে।

তারাবি নামাজের মোনাজাত

তারাবি নামাজের মোনাজাত
তারাবি নামাজের মোনাজাত

اَللَهُمَّ اِنَّا نَسْئَالُكَ الْجَنَّةَ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّارِ يَا خَالِقَ الْجَنَّةَ وَالنَّارِ- بِرَحْمَتِكَ يَاعَزِيْزُ يَا غَفَّارُ يَا كَرِيْمُ يَا سَتَّارُ يَا رَحِيْمُ يَاجَبَّارُ يَاخَالِقُ يَابَارُّ – اَللَّهُمَّ اَجِرْنَا مِنَ النَّارِ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ- بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّحِمِيْنَ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্না-নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনাননার। ইয়া খ-লিক্বল জান্নাতা ওয়ান্নার। বিরাহমাতিকা ইয়া-আজিজু ইয়া-গাফফারু, ইয়া-ক্বারিমু ইয়া-সাত্তারু, ইয়া-রাহিমু ইয়া-জাব্বারু, ইয়া-খলিকু ইয়া-বার। আল্লাহুম্মা আজিরনা-মিনান্নার। ইয়া-মুজিরু, ইয়া-মুজিরু, ইয়া-মুজির। বিরহমাতিকা ইয়া-আরহামার রহিমিন।’

তারাবি নামাজ শেষে নিজে একাকি আরো নফল নামাজ পড়তে পারেন। রোমজান মাস, যতো বেশি আমল করা যায় ততো লাভ।যে কোনো এক আমলে ৭০ আমলের সওয়াব।যেমন এক রাকাত নামাজ পড়লে ৭০ রাকাতের সওয়াব পাওয়া যাবে, এক টাকা গরীব মিসকিনকে দান করে ৭০ টাকার সওয়াব হবে।সুতরাং নফল নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত তাহাজ্জুদ নামাজ যতো বেশি পারবেন পড়বেন রমজান মাসে। 

এ মাসটি হলো রহমতে ভরপুর মাস। যখন ইফতার করতে বসা হয় তখনি বুঝা যায় কতোটা শান্তি আছে এ রমজানে। আমাদের নবী রজব মাস থেকেই রমজানের প্রস্তুতি নিতেন। তিনি রজব এবং সাবান মাসেও প্রচুর রোজা রাখতেন। সাবান মাসে নবীজি বলতেন আর কতোদিন রইলো রমজানের। তিনি অধীর আগ্রহ নিয়ে রমজানের জন্য অপেক্ষা করতেন এবং প্রস্তুতি নিতেন।

সুতরাং আমরাও রজব এবং সাবান মাস হতেই রমজানের প্রস্তুতি গ্রহন করবো এবং রমজানের মাসে যেভাবে আমল করবো ঠিক সেভাবে যেনো বাকি মাসগুলো পার করতে সে মনোভাব গ্রহণ করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা সবাইকে ইসলামের প্রতিটা অনুশাসন মেনে চলার তৌফিক দিক-আমিন।

Leave a Comment