মোটা হওয়ার কার্যকরী ১০ উপায় । জেনে থাকুন স্বাস্থ্যবান ও সচেতন!

মোটা আর বুটকা/বুটকি শব্দ সম্পূর্ণই ভিন্ন।  বুটকা বা বুটকি আমরা বলে থাকি সাধারণত যারা অনেক মোটা হয়ে থাকে তাদেরকে। আর মোটা হলো স্বাভাবিক সুন্দর স্বাস্থ্যকে বুঝায়। 

আমরা অনেকেই জন্মগত ভাবে চিকন হয়ে থাকি এবং আমাদের চিকন হওয়ার কারনে অনেকটা খারাপ লাগে। আর হয়তো এ জন্যই আপনি মোটা হতে চেয়েছেন এবং এ আর্টিকেলটি পরতে এসেছেন।পুরো লেখাটি ভালোভাবে পড়ুন এবং মেনে চলুন।

ওজন কম হওয়ার কারণ 

বিভিন্ন কারণেই আমাদের শরীরের ওজন কম হয়ে থাকে। জেনেটিক কারণ, অনিয়মিত খাদ্য অভ্যাস, মানসিক  সমস্যা, ক্যান্সার ডায়াবেটিস, ডায়রিয়া,  আর্থ্রাইটিস, হাইপারথাইরয়েডিজম,যক্ষ্মা, ড্রাগস, এইডস,জ্বর, ফুসফুসের সমস্যা ইত্যাদি। এছাড়াও বয়সের কারণে ওজন কম বেশি হতে পারে। তাই ওজন বাড়ানোর জন্য এই বিষয়গুলোর উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

জেনে নেই মোটা হওয়ার সহজ উপায়

মনে রাখবেন, স্বাস্থ্যকরভাবে মোটা হওয়া আপনার জন্যে অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ।ঔষধ খেয়ে মোটা হওয়া একদম সহজ কিন্তু তা আপনার জন্যে ক্ষতির কারন হবে। শুধু ক্যালোরি বৃদ্ধি করার পরিবর্তে, পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম আপনার স্বাস্থ্যকে সুন্দর করে তুলবে।

মোটা হওয়ার জন্যে আপনাকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ দিতে হবে

১.খাদ্য এবং

২.ব্যায়াম।

মোটা হওয়ার খাদ্য

১.ক্যালোরি বৃদ্ধি 

২.পুষ্টিকর খাবার

৩.বারবার খাবার.

৪.গুমের আগে দুধ এবং মধু খান

৫.চকলেট

৬.কলা 

৭.মটরশুঁটি 

৮.খেজুর, ডুমুর ও বাদাম

মোটা হওয়ার ব্যায়াম

১.শক্তি প্রশিক্ষণ 

২.কম্পোজিট ব্যায়াম

৩.বিশ্রাম 

৪.টেনশন মুক্ত থাকুন

মোটা হওয়ার খাবার

  • ক্যালোরি বৃদ্ধি: মোটা হওয়ার জন্যে আপনাকে অবশ্যই আপনার দৈনন্দিন ক্যালোরি গ্রহণ বৃদ্ধি করতে হবে। আপনার বর্তমান ক্যালোরি গ্রহণের চেয়ে প্রতিদিন অতিরিক্ত 250-500 ক্যালোরি গ্রহণের চেষ্টা করুন।
  • পুষ্টিকর খাবার: শুধু ক্যালোরি বৃদ্ধি করলেই হবে না, আপনাকে অবশ্যই পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ খাবার খান।
  • বারবার খাবার: দিনে তিন বেলা ভারী খাবার খাওয়ার পরিবর্তে, 5-6 বার হালকা খাবার খান। এতে আপনার শরীরে সারা দিন শক্তির স্তর বজায় থাকবে।
  • কিছু পুষ্টিকর খাবার:
    • দুধ: প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন বি-১২ সমৃদ্ধ।
    • ডিম: প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ।
    • কলা: কার্বোহাইড্রেট, পটাশিয়াম এবং ফাইবার সমৃদ্ধ।
    • খেজুর: প্রাকৃতিক চিনি, ফাইবার এবং খনিজ সমৃদ্ধ।
    • বাদাম ও বীজ: স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন এবং ফাইবার সমৃদ্ধ।
    • মাছ, মাংস, মুরগি: প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি সমৃদ্ধ।
    • ওটমিল: ফাইবার, প্রোটিন এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ।
    • সবুজ শাকসবজি: ভিটামিন, খনিজ এবং ফাইবার সমৃদ্ধ।
  • ঘুমানোর আগে দুধ মধু খান:ঘুমোতে যাওয়ার আগে এমন কিছু খেতে পারেন যা বেশ পুষ্টিকর এবং ক্যালোরিযুক্ত। কারণ সেটা ঘুমিয়ে পরছেন বলে খরচ হচ্ছে না এবং পুরো রাত আপনার শরীরে ক্যালোরির কাজ করবে এবং ওজন বৃদ্ধি করবে। তাই প্রতিদিন ঘুমানোর আগে দুধ ও মধু মিশিয়ে খান। এটি ওজন বৃদ্ধিতে পরীক্ষিত এবং মোটা হওয়ার সহজ উপায়।
  • ডায়েটে চকলেট এবং চিজ রাখুন :সচরাচর বাহিরের খাবার খেতে আমরা নিষেধ করে থাকি। কিন্তু ওজন বৃদ্ধিতে বাহিরের খাবার যেমন আইসক্রিম, পেস্ট্রি, বার্গার ইত্যাদি খাবার খুবই কার্যকরী। এতে ফ্যাট থাকে, বেশি খেলে শরীরের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর! তাই আপনি চাইলে এগুলো খেতে পারেন কিন্তু তা হবে পরিমাণমতো। আপনার প্রতিদিনের ডায়েটে চকলেট এবং চিজ রাখতে পারেন।
  • কলা :কলা ওজন বাড়াতে সাহায্য করবে। প্রতিদিন অন্তত তিন থেকে চারটি কলা খাবেন ওজন বাড়াতে চাইলে। কলায় রয়েছে প্রায় সব পুষ্টিগুন। 
  • মটরশুঁটি :মটরশুঁটি মোটা হওয়ার জন্য ওষুধ হিসেবে কাজ করে। সবজিতে বেশি বেশি মটরশুঁটি দিয়ে খেতে হবে। এটি ওজন বাড়ানোর পাশাপাশি পুষ্টিও দেবে।
  • কিসমিস:প্রায় ১০ গ্রাম কিসমিস পানিতে ৪ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখুন। এরপর দুধ জ্বালিয়ে নিন এখন দুধটুকু ঠান্ডা করে কিসমিস মিশিয়ে খান। এটি খুব দ্রুত আপনার ওজন বৃদ্ধি করবে সাথে বিভিন্ন রোগকে প্রতিহত করবে।আপনি যদি কিশমিশের সমস্ত পুষ্টির সুবিধা নিতে চান তবে সেগুলি এক কাপ পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধে ভিজিয়ে রাখুন এবং পরের দিন সেবন করুন।আপনি চিনিমুক্ত বাদাম মাখন মিশিয়ে কিশমিশ খেতে পারেন।বাড়িতে গ্রানোলা তৈরি করুন এবং একটি ভাল পরিমাণ কিশমিশ যোগ করুন। তারপর এই মিশ্রণটি উপভোগ করুন এবং ওজন বাড়ান।আপনি কিশমিশকে স্মুদি বা প্রোটিন শেকের সাথে মিশিয়ে সেবন করতে পারেন।। 
  • খেজুর, ডুমুর ও বাদাম:তিন থেকে চারটি খেজুর, ডুমুর ও বাদাম দুধ এর সাথে সিদ্ধ করুন। প্রতিদিন ঘুমানোর আগে এই রেসিপি করে খান এরপর দেখুন ফলাফল। এটি মোটা হওয়ার জন্য একটি আয়ুর্বেদিক ওষুধ। 
  • খেজুর ও শসা:কয়েকটা খেজুর আর একটি শসা একসঙ্গে খান আশা করা যায় খুব ভালো রেজাল্ট আসবে। প্রতিদিন খেতে শুরু করুন সাত দিন যেতে না যেতেই ওজন বাড়তে শুরু করবে।

 মোটা হওয়ার ব্যায়াম

  • শক্তি প্রশিক্ষণ: শক্তি প্রশিক্ষণ আপনার পেশী গঠনে সাহায্য করবে, যা আপনার ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।
  • কম্পোজিট ব্যায়াম: স্কোয়াট, ডেডলিফ্ট, বেঞ্চ প্রেস,পুল-আপ ইত্যাদি কম্পোজিট ব্যায়াম একসাথে একাধিক পেশী গোষ্ঠীকে কাজ করে।
  • বিশ্রাম: পর্যাপ্ত বিশ্রাম আপনার শরীরকে পুনরুদ্ধার করতে এবং পেশী গঠনে সাহায্য করবে।
  • টেনশনমুক্ত থাকুন:সব সমস্যার সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে টেনশন। ওজন বৃদ্ধিতে যেমন টেনশনমুক্ত থাকা প্রয়োজন ঠিক তেমনি ওজন কমাতেও টেনশনমুক্ত থাকা খুবই আবশ্যক। আজকাল টেনশনমুক্ত থাকা খুবই কঠিন তাও চেষ্টা করবেন যতটা সম্ভব টেনশনমুক্ত থাকার।

কিছু টিপস:

  • খাবার ট্র্যাক করুন: আপনার ক্যালোরি গ্রহণ ট্র্যাক করতে একটি খাবার ট্র্যাকিং অ্যাপ ব্যবহার করুন।
  • ধৈর্য ধরুন: মোটা হতে সময় লাগে। হতাশ হবেন না এবং ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে যান।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ: আপনার যদি কোনও স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে, তাহলে মোটা হওয়ার জন্যে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

আমি যেভাবে মোটা হই

২০১৬ সাল পর্যন্ত আমি মোটামুটি চিকন ই ছিলাম।  হঠাৎ আমার টাইপয়েড জ্বর হয়।তখন আমি আরো চিকন হয়ে যাই। সুস্থ হওয়ার পর নিয়মিত খাবার গ্রহন এবং বিশ্রাম+গুম আমাকে কয়েক মাসের মধ্যে মোটামুটি স্বাস্থ্যবান করে তুলে। আলু সিদ্ধ খেতে পারেন।আমি নিয়মিত খাবারের পাশাপাশি আলু সিদ্ধ খেয়েছিলাম।

আবার অনেকের শরীরের চামরা অনেক টাইট থাকে। তারা সহজে মোটা হতে পারে নাহ। আপনি আপনার শরীরের চামরা টান দিয়ে দেখবেন কতোটা লম্বা হয়। এর থেকেও বুঝাযায় আপনি মেটা হবেন নাকি হবেন নাহ। 

নিয়মিত পরিমান মত পানি খেলেও স্বাস্থ্যের পরিবর্তন ঘটে।পানি কম খাওয়াতেও স্বাস্থ্য চিকন থাকে। তাই সুন্দর স্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত পানি পান করুন।

প্রশ্ন

১. সাত দিনে মোটা হওয়ার উপায় কি?

উত্তর: সঠিকভাবে ডায়েট মেনে চললে সাত দিন থেকেই ওজন বৃদ্ধি পাবে।

২. মোটা হওয়ার ঘরোয়া উপায় কি কি?

উত্তর: দুধ ও মধু মিক্সড করে খাওয়া, শসা ও খেজুর খাওয়া, তেলযুক্ত খাবার ইত্যাদি।

৩. মোটা হওয়ার জন্য কোন ওষুধ আছে কি?

উত্তর: জি হ্যাঁ, বিভিন্ন ভিটামিন সিরাপ রয়েছে যা খাওয়ার রুচি বৃদ্ধি করে তবে ডাক্তারের পরামর্শ মেনে খেতে হবে।

৪. মোটা হওয়ার জন্য ব্যায়াম কি প্রয়োজন?

উত্তর: কিছু ব্যায়াম রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে দ্রুত মোটা হওয়া যায় যা উপরে বলা হয়েছে।

৫.কি খেলে মানুষ মোটা হয়ে যায়?

  • দুধ: প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন বি-১২ সমৃদ্ধ।
  • ডিম: প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ।
  • কলা: কার্বোহাইড্রেট, পটাশিয়াম এবং ফাইবার সমৃদ্ধ।
  • খেজুর: প্রাকৃতিক চিনি, ফাইবার এবং খনিজ সমৃদ্ধ।
  • বাদাম ও বীজ: স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন এবং ফাইবার সমৃদ্ধ।
  • মাছ, মাংস, মুরগি: প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি সমৃদ্ধ।
  • ওটমিল: ফাইবার, প্রোটিন এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ।
  • সবুজ শাকসবজি: ভিটামিন, খনিজ এবং ফাইবার সমৃদ্ধ।
  • দুধ মধু খান

৬.খেজুর খেলে কি মোটা হয়ে যায়?

মোট বা শরীরে শক্তির জন্য খেজুরের কোনো তুলনা নেই। খেজুর আমাদেরকে সিংহ পুরুষ হতে সাহায্য করে।তাছাড়া গবেষণায় জানা যায় একটি খেজুর থেকে আমরা ২৩ কিলোক্যালোরি পর্যন্ত গ্রহণ করতে পারি এবং ৫০০ গ্রাম থেকে ১১৫০০ কিলোক্যালোরি পেয়ে থাকি। সুতরাং শরীরে এনার্জি যোগাতে আমরা খেজুর খেতে পারি।  

৭.সকালে খালি পেটে কি খেলে শরীর মোটা হয়?

আমরা সকালে খালি পেটে ছোলা বুট ভিজিয়ে খেতে পারি এবং কিশমিশ,নারকেলের পানি,খেজুর দ্রুত ওজন বাড়বে।রাতে গুমানোর সময় ছোলা ভিজিয়ে রেখে সকালে নাস্তার সাথে যুক্ত করে খেতে পারেন।

৮.কি খেলে মানুষ মোটা হয়ে যায়।

নিয়মিত খাবার খেলে এবং সঠিক নিয়মে ব্যায়াম করলে এবং গুম হলে মানুষের শরীর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। তাছারা দুধ,ডিম,খেজুর,বাদাম,পরিমানমত পানি,কিশমিশ খেলেও মানুষ সুন্দর স্বাস্থ্যের অধিকার হতে পারে। 

Leave a Comment