রমজান মাসের ফজিলত, নেয়ামত এবং বরকত

আরবী ১২ মাস থেকে ১২ মাস ই ফজিলত পূর্ণ মাস কিন্তু এ ১২ মাস থেকে কিছু কিছু মাস আমাদের জন্য অনেক বেশি ফজিলত পূর্ণ।তারমধ্য অন্যতম ফজিলত পূর্ণ মাস হলো মাহে রমাদান মাস।রমজান মাস আসলে আমাদের দোজাহানের নবী অনেক বেশি আনন্দিত হতেন এবং সাহাবিদের উদ্দেশ্যে এভাবে ঘোষণা করতেন

أتاكم رمضان شهر مبارك

‘তোমাদের দরজায় বরকতময় মাস রমজান এসেছে।’

রমজান মাসের ফজিলত সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘রমজান- বরকতময় মাস তোমাদের দুয়ারে উপস্থিত হয়েছে। পুরো মাস রোযা পালন আল্লাহ তোমাদের জন্য ফরয করেছেন। এ মাসে জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত করে দেয়া হয়, বন্ধ করে দেয়া হয় জাহান্নামের দরজাগুলো। দুষ্ট শয়তানদের এ মাসে শৃংখলাবদ্ধ করে দেয়া হয়। এ মাসে আল্লাহ কর্তৃক একটি রাত প্রদত্ত হয়েছে, যা হাজার মাস থেকে উত্তম। যে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে মহা কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো।’ (সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস : ৬৮৩)

পবিত্র কোরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘রমজান মাস, যার মধ্যে কোরআন নাজিল করা হয়েছে— আর কোরআন হলো লোকদের পথ প্রদর্শক এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট বর্ণনা এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী।’ (সুরা আল-বাকারাহ, আয়াত : ১৮৫)

রমজান মাস অনেক বেশি ফজিলত পূর্ণ।  কেননা এ মাসে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়,এ মাসে আল্লাহ তার বান্দাদের রহমত,মাগফিরাত এবং নাজাত দিয়ে থাকেন। রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের ঘোষনা নিয়ে আসা রমজান নিঃসন্দেহে অন্যান্য মাস হতে উত্তম। একজন মুসলিম হিসেবে এ মাসটি আমাদের জন্য শিক্ষা অর্জনের মাস এবং এ শিক্ষা অন্য সকল মাসে প্রয়োগ করে আমাদের ইহকাল এবং পরকালকে আলোকিত করতে পারবো।

রোজা শব্দটি ফারসি এর আরবী হচ্ছে সওম, বহুবচন সিয়াম। বাংলা অর্থ বিরত থাকা। সুবহেসাদিক হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার, পাপাচার, খারাপ কাজ বা গুনাহের কাজ হতে বিরত থাকাকে সিয়াম সাধনা বা রোজা বলে।

আমাদের নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ মাসের জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতেন।যখন রজব মাস আসতো তখন নবীজি বেশি বেশি বলতেন , “আল্লহুম্মা বারিকলানা ফি রজাবা ওয়া শাবান অ বাল্লিগনা রমাদন”। এবং শাবান মাস আসলে সাহাবিদের জিগ্যেস করতেন আর কতোদিন আছে রমজানের, আর কয়দিন পর রমজান আসছে।

রমজান মাসে আল্লাহ মুমিনদের জন্য যা যা নেয়ামত রেখেছেন।

প্রিয় নবীজি (সা.) এর প্রিয় সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, যখন রমজান মাস আসে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, আর শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়(আলহামদুলিল্লাহ)। (বুখারী, মুসলিম)

অপর হাদিসে এসেছে, হযরত সাহল ইবনে সা’দ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম (সা.) এরশাদ করেছেন, বেহেশতের ৮টি দরজা রয়েছে। এর মধ্যে ১টি দরজার নাম রাইয়ান। রোজাদার ব্যতিত আর কেউ ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। (বুখারী, মুসলিম)

বিখ্যাত হাদিস বিশারদ সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, হুজুর (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমজান মাসের রোজা রাখবে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমজান মাসের রাতে এবাদত করে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে কদরের রাতে ইবাদত করে কাটাবে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (বুখারী, মুসলিম)

হাদিসে আরও এসেছে, রাসুল (সা.) বলেন, রোজা সম্পর্কে আল্লাহ স্বয়ং এরশাদ করেছেন: “রোজা আমার জন্যে এবং আমিই তার পুরস্কার দান করবো।”  রোজা জাহান্নামের আজাব থেকে বাঁচার জন্য ঢাল স্বরুপ। তোমাদের কেউ রোজা রেখে অশ্লীল কথাবার্তায় ও ঝগড়া বিবাদে যেন লিপ্ত না হয়। কেউ তার সঙ্গে গালমন্দ বা ঝগড়া বিবাদ করলে শুধু বলবে, আমি রোজাদার। 

অপর একটি হাদিসে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলে পাক (সা.) বলেছেন, রোজা এবং কোরআন কেয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, হে পরওয়ারদিগার! আমি তাকে রমজানের দিনে পানাহার ও প্রবৃত্তি থেকে বাধা দিয়েছি। সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। কোরআন বলবে, আমি তাকে রাতের বেলায় নিদ্রা হতে বাধা দিয়েছি। সুতরাং আমার সুপারিশ তার ব্যাপারে কবুল করুন। অতএব, উভয়ের সুপারিশই কবুল করা হবে এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। (বায়হাকী)

রমজানের ফজিলত সম্পর্কে হাদিস

‘হে ঈমানদারগণ, তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে। যেমন ফরজ করা হয়েছিলো তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর। যেন তোমরা পরহেজগারি অর্জন করতে পার’: আল কুরআন। ‘রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের চেয়ে বেশী ঘ্রানযুক্ত’।আল হাদিস।

‘ইফতার পর্যন্ত রোজাদারের জন্য ফেরেশতারা দোয়া করেন’:,‘রোজাদারের জন্য প্রতিদিন জান্নাতকে সজ্জিত করা হয়’: , ‘রমজানের শেষ রাতে সকল উম্মতকে মাফ করা হয়’: , ‘রমজান জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাওয়ার ঢাল’:।

‘রমজান জান্নাতে যাওয়ার উৎকৃষ্টতম উপায় এবং রাইয়ান নামক বিশেষ দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ’:,‘রমজান গুনাহ মোচনের অন্যতম মাধ্যম’,‘রোজা কিয়ামতের দিন মুমিন ব্যক্তির জন্য শুপারিশকারী হবে’:।

‘রোজার পুরষ্কার আল্লাহ নিজ হাতে প্রদান করবেন’,‘রোজার মাধ্যমে আচার-আচরণ ও চরিত্র সুন্দর হয়’,‘রোজা মানুষকে আখেরাত মুখী করে’।

‘রমজান সামাজিক সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ব বোধ সৃষ্টি করে’,‘রমজান আল্লাহ ও বান্দার মাঝে নিতান্ত গোপন ইবাদত তাই এর মাধ্যমে আল্লাহ ও বান্দার মাঝে সম্পর্ক দৃঢ়তর হয়’,‘রমজান আল্লাহর ইবাদতের এক অভূতপূর্ব ট্রেনিং স্বরূপ’।

রমজান মাসের ফজিলত অনেক বেশি।যে কোনো ভালো কাজ করলেই ৭০ গুন বেশি সওয়াবের অধিকারী হওয়া যাবে।আপনি যদি ১ টাকা কাউকে দান করেন তাহলে ৭০ টাকার সমপরিমাণ সওয়ার আল্লাহ আপনার আমল নামায় লেখাবেন।

রোজার মাসে এক খতম কোরআন শরীফ পাঠ করলে ৭০ খতম কোরআন শরীফ খতম দেওয়ার সওয়াব পাওয়া যাবে।এক রাকাত নামাজ পড়লে ৭০ রাকাত নামাজ পড়ার সওয়া পাওয়া যাবে।

সেই জন্য রোজার মাসে বেশি বেশি দান সাদকা করতে বলা হইছে।বেশি বেশি জিকির আজকার, নামাজ, নফল নামাজ, সুন্নত নামাজ, আওয়াবির নামাজ, তাহাজ্জুদ নামাজ, ইশরাকের নামাজ সহ আরো যত নামাজ আছে সব নামাজ বেশি বেশি পড়বেন।

রমজান মাসকে আল্লাহ ৩ ভাগে ভাগ করেছেন।

১,রহমতের ১০ দিন।

২,মাগফিরাতের ১০ দিন।

৩,নাজাতের ১০ দিন।

প্রথম ১০ দিনকে রহমতের দিন হিসেবে নির্ধারণ করে দেওয়া হইছে।এ ১০ দিনে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়া এবং পরকালের সকল বান্দাদের প্রতি অজস্র রহমত নাযিল করেন সুবহানাল্লাহ। 

মধ্যখানের ১০ দিনকে আল্লাহ তায়ালা মাগফিরাতের জন্য নির্ধারণ করেছেন।এবং শেষের ১০ দিনকে আল্লাহ তায়ালা নাজাতের জন্য নির্ধারণ করেছেন।আল্লাহ তায়ালা কতো বড় দয়ালু হলে আমাদেরকে আমাদের গুনাহ গুলো ক্ষমা চাওয়ার জন্য সুযোগ করে দেন।

এই মাসের মধ্যে অন্যতম একটি ফযিলত পূর্ণ কাজ হলো তারাবির নামাজ।তারাবির নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ।সারাদিন রোজা রেখে রাতের বেলায় দাড়িয়ে ২০ রাকাত তারাবি নামাজ পড়লে আল্লাহ বান্দার গুনাহ ক্ষমা করে দেন এবং বান্দার প্রতি খুশি হন।

আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু তাআ’লা আনহু হতে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- যে ব্যাক্তি ইমানের সাথে রোমজাম মাসে সওয়াবের উদ্দেশ্য তারাবির নামাজ আদায় করবে আল্লাহ তার অতীতের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন- সুবহানাল্লাহ (হাদিসটি সহিহ বুখারী ু মুসলিম শরীফের)

তাছাড়াও রোজার মাসে ইফতার এবং সেহরীতে রয়েছে অজস্র ফজিলত এবং নেয়ামত।সেহরী খাওয়ার আগে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে নিবেন এবং ইফতার করার পূর্বে আল্লাহর কাছে দুই হাত তুলে যা চাওয়ার চেয়ে নিবেন।অবশ্যই আল্লাহ আপনাকে নিরাশ করবে নাহ। তাহাজ্জুদের সময় যেমন দোয়া কবুলের সময় ঠিক তেমনি ইফতারের আগ মুহুর্তে দোয়া কবুলের সঠিক সময়।

রমজান মাসে আমরা যা শিখবো

পবিত্র মাহে রমাদান হলো আমাদের জন্য শিক্ষনীয় একটি মাস।পুরো ১১ মাসে কিভাবে আমাদের চলতে হবে সে শিক্ষা দিয়ে যায় এ রমজান মাস অর্থাৎ এ মাসটি আমাদের ট্রেনিংয়ের মাস এবং এর থেকে শিক্ষা অর্জন করে বাকি মাসগুলো সুন্দর ভাবে আমাদের চলতে হবে। এ মাসেরে যেভাবে আমরা নামাজ পড়ি ,রোজা রাখি, মিথ্যা কথা বলি নাহ, দান সদকা করি, একে অপরকে সাহায্য করি ঠিক সেভাবে বাকি মাসগুলো করতে হবে। রমজানে আমাদের যে মৌলিক শিক্ষা গুলো অর্জন করতে হবে

উত্তম চরিত্র গঠনের অনুশীলন করা

রমজান মাস নিজকে গঠনের মাস। এ মাসে এমন প্রশিক্ষণ নিতে হবে যার মাধ্যমে বাকি মাসগুলো এভাবেই পরিচালিত হয়। কাজেই এ সময় আমাদের সুন্দর চরিত্র গঠনের অনুশীলন করতে হবে।

আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ যদি রোযা রাখে, সে যেন তখন অশ্লীল কাজ ও শোরগোল থেকে বিরত থাকে। রোজা রাখা অবস্থায় কেউ যদি তার সাথে গালাগালি ও মারামারি করতে আসে সে যেন বলে, আমি রোজাদার।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৫১)

ইতিকাফ করা

ইতিকাফ অর্থ অবস্থান করা। অর্থাৎ মানুষদের থেকে পৃথক হয়ে সালাত, সিয়াম, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া, ইস্তিগফার ও অন্যান্য ইবাদাতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার সান্নিধ্যে একাকী কিছু সময় যাপন করা। এ ইবাদাতের এত মর্যাদা যে, আল্লাহর রাসুল (সা.) প্রতি রমাদানের শেষ দশ দিন নিজে এবং তার সাহাবিগণ ইতিকাফ করতেন।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, ‘প্রত্যেক রমাজানেই তিনি শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতেন। কিন্তু জীবনের শেষ রমজানে তিনি ইতিকাফ করেছিলেন বিশ দিন।’ দশ দিন ইতিকাফ করা সুন্নত। (সহিহ আল-বুখারি, হাদিস : ২০৪৪)

শেষ ১০ দিন ইতেকাপ করলে লাইলাতুলকদর নসীব হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।মহিলা এবং পুরুষ উভয়েই ইতেকাপ করতে পারবে।পুরুষরা মসজিদে এবং মহিলারা ঘরের এক রুমে করবে যাতে তারা নিরবে থাকতে পারে।

দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া

ইসলামের প্রতি মানুষকে দাওয়াত দেওয়ার জন্য আল্লাহ নিজে আমার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি আয়াত নাযিল করেন, আল্লাহ বলেন

হে প্রিয় রাসূল! আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে, তা প্রচার করুন।যদি আপনি তা প্রচার না করেন, তাহলে আপনি রিসালাতের দায়িত্ব পালন করলেন নাহ।(সূরা মায়িদা:৬৭)

এরপর রাসূল আমাদের প্রতি লক্ষ্য করে বলেন-” বাল্লিগো আন্নি অলাও আয়াত” আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও প্রচার কর ও পৌছে দাও(সহীহ বুখারী)

কিভাবে মানুষকে ইসলামের দিকে দাওয়াত করবেন সে বিষয়ে আল্দেআল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে লক্ষ্য করে বলেন-তুমি তোমার রবের প্রতি মানুষকে আহবান করো হিকমত ও উত্তম উপদেশের সাথে এবং তাদের সাথে যুক্তিতর্ক করো সুন্দরতম পন্থায়। (সূরা আন-নাহল:১২৫)

রমজান মাস হচ্ছে দ্বীনের দাওয়াতের সর্বোত্তম মাস। আর মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকাও উত্তম কাজ। এজন্য এ মাসে মানুষকে দ্বীনের পথে নিয়ে আসার জন্য আলোচনা করা, কোরআন ও হাদিসের দারস প্রদান, বই বিতরণ, কোরআন বিতরণ ইত্যাদি কাজ বেশি বেশি করা।

কোরআনের ঘোষণা, ‘ওই ব্যক্তির চাইতে উত্তম কথা আর কার হতে পারে— যে আল্লাহর দিকে ডাকল, নেক আমল করল এবং ঘোষণা করল যে, আমি একজন মুসলিম।’ (সুরা হা-মীম সাজদাহ, আয়াত : ৩৩)

হাদিসে এসেছে, ‘ভালো কাজের পথ প্রদর্শনকারী এ কাজ সম্পাদনকারী অনুরূপ সাওয়াব পাবে।’ (সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস : ২৬৭০)

সামর্থ্য থাকলে উমরা পালন করা

পবিত্র মাহে রমজান মাসে মুসলিমগন সৌদি আরবে ছুটে চলে পবিত্র ওমরাহ করার জন্য। এ মাসে একটি উমরাহ করলে একটি হজ আদায়ের সমান সাওয়াব হয় এবং ৭০ টি ওমরা পালনের সওয়া ও হয়। আবদুল্লাহ ইবনে আববাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘রমজান মাসে উমরা করা আমার সাথে হজ আদায় করার সমতুল্য।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮৬৩)

লাইলাতুল কদর তালাশ করা

লাইলাতুল কদর তালাশ
লাইলাতুল কদর তালাশ

রমজান মাসের শেষ ১০ রাতে এমন একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।  এ রাতকে লাইলাতুলকদর বলে।আল-কোরআনের ঘোষণা, ‘কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ (সুরা কদর, আয়াত : ০৪)

হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমান ও সাওয়াব পাওয়ার আশায় ইবাদাত করবে, তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (সহিহ আল-বুখারি, হাদিস : ৩৫)

এ রাত লাভ করতে সক্ষম হওয়া বিরাট সৌভাগ্যের বিষয়। এক হাদিসে আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) অন্য সময়ের তুলনায় রমজানের শেষ দশ দিনে অধিক হারে পরিশ্রম করতেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৭৫)

লাইলাতুল কদরের দোয়া : আয়েশা (রা.) বললেন, হে আল্লাহর নবী! যদি আমি লাইলাতুল কদর পেয়ে যাই— তবে কী বলব? আল্লাহর রাসুল (সা.) বললেন, ‘বলবে- اللَّهمَّ إنَّك عفُوٌّ كريمٌ تُحِبُّ العفْوَ، فاعْفُ عنِّي

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন কারিম; তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নি।

অর্থাৎ : হে আল্লাহ, আপনি মহানুভব ক্ষমাশীল। আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।’ (সুনান আত-তিরমিজি : ৩৫১৩)

বেশি বেশি দোয়া ও কান্নাকাটি করা

দোয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।কেননা সমস্ত ইবাদতের মগজ হলো দোয়া। এজন্য এ মাসে বেশি বেশি দোয়া করা ও আল্লাহর নিকট বেশি বেশি কান্নাকাটি করা। হাদিসে এসেছে, ‘ইফতারের মূহূর্তে আল্লাহ রাববুল আলামিন বহু লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। মুক্তির এ প্রক্রিয়াটি রমাদানের প্রতি রাতেই চলতে থাকে।’ (আল-জামিউস সাগির, হাদিস : ৩৯৩৩)

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘রমজানের প্রতি দিবসে ও রাতে আল্লাহ তাআলা অনেককে মুক্ত করে দেন। প্রতি রাতে ও দিবসে প্রতি মুসলিমের দোয়া কবুল করা হয়।’ (সহিহ আত-তারগিব ওয়াত তারহিব : ১০০২)

শুধু যে ইফতারের সময় দোয়া করতে হবে তা নয় রমজান মাসে সেহরীর আগে তাহাজ্জুদ পড়ে আল্লাহর কাছে খালেছ নিয়তে কান্নাকাটি করে দোয়া করে যা চাইবেন আল্লাহ অবশ্যই আপনাকে দিবেন একদিন আগে হউক বা পরে।

ইফতার করা এবং ইফতার করানো

পানি বা যে কোনো খাবার আমাদের জন্য আল্লাহ পক্ষ থেকে কতো বড় যে নেয়ামত সেটা রমজান মাসে ইফতারের সময় বুঝা যায়।যখন ইফতারের দোয়া পড়ে একটা খেজুর মুখে দেই তখন উপলব্ধি করা যায় আল্লাহর নেয়ামত সম্পর্কে ।সময়ের সাথে সাথে ইফতার করা বিরাট ফজিলাতপূর্ণ আমল। কোন বিলম্ব না করা । কেননা হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি সিয়াম পালন করবে, সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে। খেজুর না পেলে পানি দিয়ে ইফতার করবে। কেননা পানি হলো অধিক পবিত্র।’ (সুনান আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৫৭)

নবী (সা.) যখন ইফতার করতেন তখন বলতেন, ‘পিপাসা নিবারিত হলো, শিরা উপশিরা সিক্ত হলো এবং আল্লাহর ইচ্ছায় পুরস্কারও নির্ধারিত হলো।’ (সুনান আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৫৯)

অপর বর্ণনায় যে এসেছে, ‘হে আল্লাহ! তোমার জন্য রোজা রেখেছি, আর তোমারই রিজিক দ্বারা ইফতার করছি।’ এই হাদিসের সনদ দুর্বল। আর আমাদের উচিত সহিহ হাদিসের উপর আমল করা। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস :২৩৫৮) 

ইসলামের সর্বোত্তম কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম উত্তম কাজ হলো মানুষকে খাওয়ানো।আর সেটা যদি হয় রমজানের ইফতার তাহলেতো ১ জনকে ইফতার করানো মানে ৭০ জনকে ইফতার কটানো। অন্যকে ইফতার করানো একটি বিরাট সওয়াবের কাজ। প্রতিদিন কমপক্ষে একজনকে ইফতার করানোর চেষ্টা করা দরকার। কেননা হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে ইফতার করাবে, সে তার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে, তাদের উভয়ের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না।’ (সুনান ইবন মাজাহ, হাদিস : ১৭৪৬)

তওবা ও ইস্তেগফার করা

তওবা বা তাওবাহ শব্দের আভিধানিক অর্থ ফিরে আসা, গুনাহের কাজ আর না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া। এ মাস তওবা করার উত্তম সময়। আর তাওবাহ করলে আল্লাহ খুশী হন।আল্লাহ তায়ালা খাটি তওবা সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা কর, খাটি তাওবা; আশা করা যায়, তোমাদের রব তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদের এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন— যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত।’ (সুরা আত-তাহরিম, আয়াত : ০৮)

Leave a Comment